গত সোমবার, সন্ধ্যারাতে আমরা মোড়ের মাথার একটা দোকানে দাঁড়িয়ে বর্তমানের প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে যুক্তি-তক্ক-গপ্প চালিয়ে যাচ্ছি জোরদার. এমন সময় একজন প্রৌড়, সঙ্গে তার এক যুবতী ভার্যা ও তাদের বছর তেরোর কন্যা আমাদের কাছে এসে দাঁড়ালো. বৃদ্ধ জানতে চাইলেন, এখানে কোনো লোকাল ক্লাব কিংবা পার্টি অফিস কোথায় আছে? এরকম ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায় সকলেই বেশ কিছুটা ইতস্তত বোধ করছিলাম. তখন আমাদের মধ্যে থেকে একজন জিজ্ঞাসা করল, কেন,কী ব্যাপার!! ভদ্রমহিলা বললেন যে, তারা আসছেন বোলপুর থেকে. মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে কিন্তু গতকাল ফোন করে বের হলেও এখানে এসে তারা দেখে যে ডাক্তারবাবু নেই. তাই ওরা ঠিক করেছিল যে, হোটেলে খেয়ে কলকাতায় গিয়ে কোনো ভালো ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে. বাধ সাধল টাকা.দুপুরে খাওয়ার পর স্টেশনে এসে টিকিট কাটতে গিয়ে দেখে তার স্বামীর পিক-পকেট হয়েছে. এরপর তারা থানায় যায়, পুলিশ সাফ জানিয়ে দেয় এ-ব্যাপারে তারা কিছু করতে পারবে না.তখন থেকে তারা ওই বাচ্ছা মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হন্যে হয়ে, একটু সাহায্যের জন্য. কিন্তু এখন পর্যন্ত...নাহ!! তাই... সবাই শুনলাম বটে মন দিয়ে, হয়তো আমরা একটু বেশি ডুবে গিয়েছিলাম ঘটনাটার গভীরে. তাই ঘর কেটে বাস্তবে ফিরে আসতে বোধ হয় একটু সময় লেগেছিল.আমরা কিছু বলতে যাব কী, দেখি তারা ধীর,আশায়,গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে... এগিয়ে যাচ্ছে হয়তো পার্টি অফিসের খোঁজে, হয়তো ক্লাবের খোঁজে, হয়তো বা মানুষের খোঁজে...
No comments:
Post a Comment